উত্তরপ্রদেশে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, আহত নারী পাইলট
- আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 19

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি হালকা প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে নির্মাণাধীন একটি মহাসড়কের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিমানটির নারী পাইলট আহত হলেও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আলিগড় থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে অংশ নেওয়া বিমানটিতে আকাশে ওঠার কিছুক্ষণ পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। একই সময় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিমানটি কয়েকবার নিচু দিয়ে চক্কর দেয় এবং ভারসাম্য রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছিল। পরে পাইলট জনবসতি এড়িয়ে নির্মাণাধীন ছয় লেনের মহাসড়কে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন। তবে অবতরণের আগে বিমানটি বিদ্যুতের তারে আঘাত করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ভেঙে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত পাইলটকে উদ্ধার করেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগ্রায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলেন। বিমানের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হলেও অন্য সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি, বিমানের কারিগরি অবস্থা এবং উড্ডয়নের সময়কার প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।
বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি ছিল। মাঝ আকাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর কিছু সময় বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি কাসগঞ্জে বিধ্বস্ত হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর নারী পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, তিনি জনবসতি এড়িয়ে বিমান সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।























