তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বড় উদ্যোগ, স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার
- আপডেট সময় : ০৪:২৩:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 19

দেশের মানুষের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এ লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ গড়ে তোলা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সুবিধাসহ জরুরি বিভাগ, ইনডোর-আউটডোর সেবা, আধুনিক প্যাথলজি এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে প্রতিটি হাসপাতালে একজন নারী ও একজন পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
এছাড়া জেলা হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তৃণমূলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এজন্য প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট এবং ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (হেলথ স্ক্রিনিং) কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষভাবে ২৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনি পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) মডেলের আদলে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ইউনিটের অধীনে থাকবে তিনটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক, যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কাররা।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মোট ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা, ফলে এক বছরের ব্যবধানে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে প্রত্যেক নাগরিককে একটি ই-হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকের চিকিৎসক রোগীর পূর্বের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের তথ্য সহজেই দেখতে পারবেন। এ লক্ষ্যে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় ২৫ লাখ ই-হেলথ কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পে ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শিগগিরই ৫ হাজার চিকিৎসক এবং ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে মিডওয়াইফ থাকবেন, যা মাতৃস্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা বিভাগে ২০০ শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এসব হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।























