ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ভারতীয় ভিসার নামে প্রতারণা, সতর্কবার্তা দিল ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ‘বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে, জুলাই ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই’— ইশরাক হোসেন মৌসুমি বায়ু সক্রিয়, টানা পাঁচ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ‘ভারতও চাপে, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের সময় এসেছে’— দাবি এনসিপির মুখপাত্র আসিফ সজীব ভুঁইয়ার ২ লাখ টনের বেশি কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি, দেশে এসেছে মাত্র ২৬.৫ মেট্রিক টন দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে একের পর এক বিস্ফোরণ, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা অনুমোদনহীন লিগে খেলায় সাবেক ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে কঠোর পিসিবি, হতে পারে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলপন্থী গান নিয়ে বিতর্ক: ‘জিসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার’ থেকে সরে দাঁড়ালেন বয় জর্জ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে নিয়োগ: সেফটি অফিসার পদে আবেদন চলছে, থাকছে আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা ‘৩৬ জুলাই’: ক্যালেন্ডারে নেই, ইতিহাসে আছে—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকী বিজয়ের দিন

রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন জমি চাইল জাতিসংঘ, বাংলাদেশের ‘না’; প্রত্যাবাসনের দাবিতে জোর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 16

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। তবে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতির কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দেশ।

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জাতীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক অংশীজনদের প্রতি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাও তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। তাই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান। পাশাপাশি তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে থেকেই বাংলাদেশে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। পরে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা ও সামরিক অভিযানের পর আরও প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে দেশে মোট প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন জমি চাইল জাতিসংঘ, বাংলাদেশের ‘না’; প্রত্যাবাসনের দাবিতে জোর

আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। তবে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতির কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দেশ।

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জাতীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক অংশীজনদের প্রতি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাও তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। তাই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান। পাশাপাশি তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে থেকেই বাংলাদেশে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। পরে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা ও সামরিক অভিযানের পর আরও প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে দেশে মোট প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।