ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ফারাক্কার প্রভাবে ভয়াবহ পানি সংকটের সতর্কতা, ২৬ জেলা নিয়ে বড় উদ্বেগ জানালেন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • / 130

ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ এলাকা, অর্থাৎ প্রায় ২৪ থেকে ২৬টি জেলা এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ আজ মরুভূমির মতো চরম পানিসংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জাতীয় নদী দিবস’ উপলক্ষে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এই সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

তিস্তা ব্যারেজ ও মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, তিস্তা পাড়ের মানুষের অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। বিগত তিন মাসে মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকল্পটির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে নতুন করে পরিকল্পনা সাজিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের তিনটি সহযোগী সংস্থা—আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস এবং ওয়ারপো—গত তিন মাস ধরে তিস্তা অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তাদের গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলার মানুষের উন্নয়নই হবে এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় থমকে থাকার পর বর্তমান সরকার আবারও প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

ভারতের সঙ্গে পানির হিস্যা ও গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী ১০ দিন পরপর পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন ও কারিগরি দল সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি বিশেষজ্ঞ দল কলকাতায় গিয়ে ফারাক্কা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন ও আলোচনা করেছে, যার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও একটি সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সরকার ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আছে। তবে কিছু মহল এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের পর দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে, তাই অল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ সময়ে সরকারকে সহযোগিতা না করে অপপ্রচার চালানো জাতির জন্য ক্ষতিকর।

তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং দেশের নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফারাক্কার প্রভাবে ভয়াবহ পানি সংকটের সতর্কতা, ২৬ জেলা নিয়ে বড় উদ্বেগ জানালেন মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ এলাকা, অর্থাৎ প্রায় ২৪ থেকে ২৬টি জেলা এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ আজ মরুভূমির মতো চরম পানিসংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জাতীয় নদী দিবস’ উপলক্ষে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এই সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

তিস্তা ব্যারেজ ও মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, তিস্তা পাড়ের মানুষের অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। বিগত তিন মাসে মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকল্পটির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে নতুন করে পরিকল্পনা সাজিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের তিনটি সহযোগী সংস্থা—আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস এবং ওয়ারপো—গত তিন মাস ধরে তিস্তা অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তাদের গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলার মানুষের উন্নয়নই হবে এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় থমকে থাকার পর বর্তমান সরকার আবারও প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

ভারতের সঙ্গে পানির হিস্যা ও গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী ১০ দিন পরপর পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন ও কারিগরি দল সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি বিশেষজ্ঞ দল কলকাতায় গিয়ে ফারাক্কা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন ও আলোচনা করেছে, যার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও একটি সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সরকার ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আছে। তবে কিছু মহল এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের পর দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে, তাই অল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ সময়ে সরকারকে সহযোগিতা না করে অপপ্রচার চালানো জাতির জন্য ক্ষতিকর।

তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং দেশের নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।