ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বড় পরিবর্তনের মুখে মেটা, শিশু নিরাপত্তা মামলায় কঠিন চাপে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / 116

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং আসক্তিমূলক নকশার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান Meta-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। এই মামলার রায়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার নির্দেশ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সান্তা ফেতে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মামলায় অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল Raúl Torrez অভিযোগ করেছেন, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে কিশোররা দীর্ঘ সময় ধরে এতে যুক্ত থাকে। একই সঙ্গে শিশুদের যৌন শোষণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মামলার মূল প্রশ্ন হলো, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে কি না। আদালত যদি তা প্রমাণিত মনে করে, তবে অ্যালগরিদম পরিবর্তন, ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা বা কিছু ফিচার বন্ধ করার মতো নির্দেশ দিতে পারে।

এর আগে মামলার প্রাথমিক ধাপে জুরি বোর্ড রায় দেয়, মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নতুন ধাপে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ আরও বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে, যা প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই অর্থ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে মেটা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত কিছু পরিবর্তন প্রযুক্তিগতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এমনকি এসব শর্ত মানতে হলে নির্দিষ্ট এলাকায় সেবা বন্ধ করার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মামলাটি শুধু একটি অঙ্গরাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই ধরনের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কিশোরদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্ল্যাটফর্মের নকশায় বড় পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে এই বিচার।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বড় পরিবর্তনের মুখে মেটা, শিশু নিরাপত্তা মামলায় কঠিন চাপে

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং আসক্তিমূলক নকশার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান Meta-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। এই মামলার রায়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার নির্দেশ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সান্তা ফেতে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মামলায় অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল Raúl Torrez অভিযোগ করেছেন, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে কিশোররা দীর্ঘ সময় ধরে এতে যুক্ত থাকে। একই সঙ্গে শিশুদের যৌন শোষণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মামলার মূল প্রশ্ন হলো, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে কি না। আদালত যদি তা প্রমাণিত মনে করে, তবে অ্যালগরিদম পরিবর্তন, ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা বা কিছু ফিচার বন্ধ করার মতো নির্দেশ দিতে পারে।

এর আগে মামলার প্রাথমিক ধাপে জুরি বোর্ড রায় দেয়, মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নতুন ধাপে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ আরও বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে, যা প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই অর্থ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে মেটা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত কিছু পরিবর্তন প্রযুক্তিগতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এমনকি এসব শর্ত মানতে হলে নির্দিষ্ট এলাকায় সেবা বন্ধ করার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মামলাটি শুধু একটি অঙ্গরাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই ধরনের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কিশোরদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্ল্যাটফর্মের নকশায় বড় পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে এই বিচার।