ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
প্রভাব-প্রতিপত্তি না দেখে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ পদ্মায় দ্রুত বাড়ছে পানি, আগামী ১–২ দিনে চর ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তির দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থায় গতি বেড়েছে, প্রতিদিন লেনদেন ১২০ কোটি টাকা কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০ ৪৭ বছর বয়সে ইমরান তাহিরের রেকর্ড, ১৭ রানে নিলেন ৫ উইকেট ইবাদত ও পারিবারিক আয়োজনে পপির জন্মদিন, বাবাকে মনে করে আবেগাপ্লুত অভিনেত্রী বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১৪২ পদে নিয়োগ, আবেদন ৬ অক্টোবর পর্যন্ত

আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অনুসন্ধানে দুদক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 24

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগগুলোর বিভিন্ন দিক আরও যাচাই করতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ ও বদলি, সরকারি কেনাকাটা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। চার সদস্যের ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের নানা দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

দুদক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে সরকারি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার এবং মানিলন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি উপায়ে বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও দুদকে করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রম ও গঠনপ্রক্রিয়ায় আসিফ মাহমুদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তার প্রভাব এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ ওঠে। দুদকের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এপিএসের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে।

দুদক সূত্র আরও বলছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও সরকারি কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হয়েছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তবে দুদকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রতিবেদন কিংবা অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হলেও এর ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অনুসন্ধানে দুদক

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগগুলোর বিভিন্ন দিক আরও যাচাই করতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ ও বদলি, সরকারি কেনাকাটা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। চার সদস্যের ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের নানা দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

দুদক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে সরকারি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার এবং মানিলন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি উপায়ে বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও দুদকে করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রম ও গঠনপ্রক্রিয়ায় আসিফ মাহমুদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তার প্রভাব এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ ওঠে। দুদকের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এপিএসের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে।

দুদক সূত্র আরও বলছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও সরকারি কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হয়েছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তবে দুদকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রতিবেদন কিংবা অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হলেও এর ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।