৪৫ বছর পর ধরা পড়লেন জিয়া হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- আপডেট সময় : ০৩:১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / 11

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা সাবেক মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর সামনে এসেছে তার পলাতক জীবন ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার নানা তথ্য। মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোন করে ইংরেজিতে ‘The President has been killed’ বার্তাটি দিয়েছিলেন মোজাফফর হোসেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোজাফফর হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হামলার সময় তিনি ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন রাষ্ট্রপতির কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে মোজাফফর প্রথমে জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং পরে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে হত্যার খবর জানান।
অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে অনেকেই গ্রেপ্তার হন। তবে মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিলেন এবং ভুয়া পরিচয় ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে চলাচল করেন।
সম্প্রতি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তার মেয়ের কর্মস্থলকে সূত্র ধরে দীর্ঘদিন নজরদারির পর সম্ভাব্য অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
গোয়েন্দাদের কাছে আগে থেকেই তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল—নাকের নিচে থাকা একটি জন্মদাগ। অভিযানের সময় ছদ্মবেশে বাসায় গিয়ে নিজেদের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন গোয়েন্দারা। দরজা খুলে এক ব্যক্তি নিজের পরিচয় ‘মোজাফফর’ হিসেবে দেওয়ার পর এবং জন্মদাগ মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেন একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হওয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, দীর্ঘ পলাতক জীবনে তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখতে পুরোনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় সাধারণ নাগরিকের পরিচয়ে বসবাস করছিলেন। এতদিন আত্মগোপনে থাকলেও গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।























