চট্টগ্রামের ৫ জেলা ছাড়া সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা চলবে, সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
- / 16

চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা ছাড়া দেশের বাকি সব এলাকায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তবে বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার পরীক্ষা আপাতত স্থগিত থাকবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
বৈঠক শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনা করে আপাতত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা ছাড়া অন্য সব এলাকায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিও জানান।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার পর ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করেন। একই সময়ে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এতে দুই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, সায়েন্সল্যাব এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার শাহীন আলম বলেন, বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিএনএস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’, ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’ এবং ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই পরীক্ষা নেওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জলাবদ্ধতা, যানজট ও যাতায়াত সংকটের কারণে অনেককে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাসা থেকে বের হতে হয়েছে এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাশেম শেখ বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, বন্যাকবলিত এলাকার অনেক পরীক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি, তাই তারা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছেন।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, সোমবারের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের যে দুর্ভোগ হয়েছে, তার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। তিনি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।

























