মানসিক রোগের চিকিৎসা বিয়ে নয়, সচেতনতার বার্তা বিশেষজ্ঞের
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
- / 16

মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিয়ে দিলেই তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন—সমাজে প্রচলিত এমন ধারণাকে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন ব্রেইন, স্নায়ু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মু. সাঈদ এনাম। তার মতে, বিয়ে কোনোভাবেই মানসিক রোগের চিকিৎসা নয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ছাড়া শুধু বিয়ে দিলে রোগীর অবস্থা আরও জটিল হতে পারে এবং তার জীবনসঙ্গীকেও অযথা কষ্ট, অনিশ্চয়তা ও নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি বলেন, মানসিক রোগে আক্রান্ত হলেই একজন মানুষের ভালোবাসা, পরিবার গঠন বা সুখী দাম্পত্য জীবনের অধিকার শেষ হয়ে যায় না। যথাযথ চিকিৎসা, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং পরিবারের সহযোগিতা থাকলে একজন মানসিক রোগীও অন্য সবার মতো স্বাভাবিক ও সফল দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে পারেন।
ডা. সাঈদ এনাম জানান, বিশ্বের অনেক মানুষ মানসিক রোগের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ জীবন ফিরে পেয়েছেন। তারা শুধু সংসারই গড়েননি, কর্মক্ষেত্রেও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এমনকি অনেক নোবেলজয়ীর জীবনেও সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ জীবনসঙ্গীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক সচেতন পরিবার প্রথমে সন্তানের মানসিক রোগের চিকিৎসা সম্পন্ন করেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এমন পরিবারগুলোর অনেকেই বর্তমানে সুখী ও স্থিতিশীল দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। তার নিজের চিকিৎসাধীন অসংখ্য রোগীও চিকিৎসার মাধ্যমে মানসিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে এনে পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
তবে কিছু পরিবার এখনো মানসিক রোগ গোপন রেখে বা চিকিৎসাকে গুরুত্ব না দিয়ে বিয়েকেই সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখেন। বিশেষজ্ঞের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের পরিণতি অনেক সময় ভয়াবহ হয়। এতে দাম্পত্য কলহ, অবিশ্বাস, বিচ্ছেদ, এমনকি সহিংসতা, আত্মহত্যা বা হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তীতে অভিভাবকরা সন্তানের মানসিক রোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন অথবা কবিরাজ, ভণ্ডপীর বা অবৈজ্ঞানিক পরামর্শের কথা উল্লেখ করেন। অথচ এসবের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এগুলো কখনোই চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না।
ডা. সাঈদ এনামের মতে, একটি বিয়ের ভিত্তি হওয়া উচিত সততা, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সম্মান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। রোগ গোপন করে বা প্রতারণার মাধ্যমে কোনো সম্পর্ক টেকসই হয় না।
তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানসিক রোগকে লজ্জা বা কুসংস্কারের বিষয় হিসেবে না দেখে চিকিৎসাযোগ্য একটি স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। সময়মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া, নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এবং রোগীর পাশে ধৈর্য ও ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়ানোই সুস্থ জীবনের সবচেয়ে কার্যকর পথ। কারণ, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা একজন মানুষই নয়, একটি পরিবারকেও রক্ষা করতে পারে।



























