নীরব লক্ষণে ঘাতক রোগ, ডিম্বাশয় ক্যানসারে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
- আপডেট সময় : ১১:২৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / 117

পঞ্চাশোর্ধ নাফিজা বেগমের পরিবারে স্বাভাবিক জীবন চলছিল। ব্যবসায়ী স্বামী, দুই সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং বড় মেয়ের বিয়ে—সব মিলিয়ে ভালোই কাটছিল তাদের দিন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে তার শরীরে অস্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে।
পেট ফুলে যাওয়া, অস্বস্তি, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, পিঠে ব্যথা এবং খাবারের প্রতি অনীহা—এসব উপসর্গে চিন্তিত হয়ে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। প্রথমে পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে গাইনোলজিস্টের কাছে গেলে বিভিন্ন পরীক্ষার পর তার ডিম্বাশয় ক্যানসার ধরা পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম্বাশয় বা ওভারিয়ান ক্যানসার নারীদের মধ্যে একটি গুরুতর রোগ, যার ঝুঁকি বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অনেক সময় প্রাথমিক লক্ষণ অস্পষ্ট হওয়ায় রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়।
চিকিৎসকদের ভাষায়, পেট ফোলা, দ্রুত পেট ভরে যাওয়া, তলপেটে ব্যথা, পিঠে ব্যথা, ক্লান্তি এবং মেনোপজের পর অস্বাভাবিক রক্তপাত—এসব হতে পারে এই ক্যানসারের প্রধান লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
অনকোলজি বিশেষজ্ঞরা জানান, ডিম্বাশয় ক্যানসার জরায়ুমুখ ক্যানসার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি রোগ। অনেকেই এ দুটি রোগকে গুলিয়ে ফেলেন। ডিম্বাশয় ক্যানসার সাধারণত প্রজননতন্ত্রের ওভারি অংশে হয়ে থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যেমন আলট্রাসনোগ্রাম এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ক্যানসার মার্কার পরীক্ষা রোগ শনাক্তে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এ ক্যানসারের চিকিৎসায় সাধারণত অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপি ব্যবহৃত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে রোগী সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
তাদের মতে, সচেতন জীবনযাপন ও সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে এই নীরব ঘাতক রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
















