সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলেই ডিলারশিপ বাতিল, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 3

সার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কৃষক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন রবি মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের সব জেলা প্রশাসক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকরা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
সভায় সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারদের লাইসেন্স প্রদানের পাশাপাশি তাদের ডিলারশিপের এলাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ, কৃষকের সংখ্যা এবং ফসলের নিবিড়তা বিবেচনায় নিতে হবে। কোনো ডিলার নিয়ম লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ডিলারের দোকানে মূল্যতালিকা ও সারের মজুতসংক্রান্ত তথ্য দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দাম আদায়, মজুতদারি এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সার পাচারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
প্রকৃত কৃষকের কাছে ন্যায্যভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড ও কৃষকের তালিকা ব্যবহারের নির্দেশনাও দেন কৃষিমন্ত্রী।
আসন্ন রবি মৌসুমে সারের বরাদ্দ ও সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চাহিদা বৃদ্ধি পেলে তা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সার পাচার রোধে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু এলাকায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় এসব সার পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই দেশের সার দেশের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সারের ওপর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে থাকে। এই ভর্তুকির সুফল যেন প্রকৃত কৃষকরা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো জেলায় সার নিয়ে অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের জবাবদিহি করতে হবে।
এ ছাড়া ইউরিয়া সার শিল্পকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে বস্ত্র ও ডাইং কারখানায় ইউরিয়া সার ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য জেলা পর্যায়ের সার মনিটরিং কমিটিকে নিয়মিত সভা করে সার ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেন কৃষিমন্ত্রী।










