
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা বিরল ও জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর কোনো অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপ করবে না মার্কিন প্রশাসন। বাংলাদেশসহ মোট ২০টি দেশ ও অঞ্চলকে এই শুল্ক ছাড়ের আওতায় রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে নির্দিষ্ট কিছু পেটেন্টযুক্ত ওষুধ, বায়োলজিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও উপাদান শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা পাবে।
শুল্ক ছাড়ের আওতায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার ওষুধ, কোষভিত্তিক চিকিৎসা পণ্য, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটস বা এডিসি এবং পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ। এসব ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট উপাদানও শূন্য শুল্কের আওতায় থাকবে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা পাওয়া দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম।
মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নোটিশ অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা যোগ্য পণ্যগুলো শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা পাবে। এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বা আসন্ন বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোসংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি রয়েছে।
এর আগে গত ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেটেন্টযুক্ত ওষুধ, বায়োলজিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানোই ছিল ওই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে জেনেরিক ওষুধ এবং এর সংশ্লিষ্ট উপাদান ওই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান রপ্তানিতে অতিরিক্ত শুল্কের চাপ থাকছে না। এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের বিশেষায়িত ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।