
ভারতের উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীরনগর জেলায় ঘটেছে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা। ২১ বছর সংসার করার পর স্ত্রীকে তার প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন স্বামী। শুধু বিয়ের আয়োজনই নয়, নিজে উপস্থিত থেকে স্ত্রীকে নতুন সংসারের উদ্দেশে বিদায়ও দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি জেলার দেবরি গ্রামের। স্থানীয় বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী বুদ্ধিরাম নিষাদ ও ৩৭ বছর বয়সী ফুলমতীর বিয়ে হয়েছিল প্রায় ২১ বছর আগে। পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয় গ্রামপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, ভালোবেসেই তাদের বিয়ে হয়েছিল। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের পাঁচ সন্তান রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ১৮ বছর।
তবে কয়েক মাস আগে তাদের সংসারে টানাপোড়েন শুরু হয়। ফুলমতীর সঙ্গে ২৬ বছর বয়সী অবধেশ নামে এক যুবকের সম্পর্ক তৈরি হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিতে থাকে। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে দূরত্বও বাড়তে থাকে।
প্রায় দুই মাস আগে ফুলমতী অবধেশের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। তারা আশা করেছিলেন, এরপর ফুলমতী আবার স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
বাড়িতে ফিরে আসার পরও দাম্পত্য কলহ চলতে থাকে। একপর্যায়ে ফুলমতী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর বুদ্ধিরামের সঙ্গে সংসার করতে চান না। বরং অবধেশের সঙ্গেই থাকতে চান।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে জোর করে নিজের সঙ্গে রাখার পরিবর্তে তাকে অবধেশের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বুদ্ধিরাম। পরে আশরফপুর গ্রামের একটি শিবমন্দিরে স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে ফুলমতী ও অবধেশের বিয়ের আয়োজন করা হয়।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, বিয়ের অনুষ্ঠানে বুদ্ধিরাম নিজেও উপস্থিত ছিলেন। বিয়ে শেষে তিনি স্ত্রীকে নতুন স্বামীর সঙ্গে বিদায় জানান।
সংবাদমাধ্যমের কাছে বুদ্ধিরাম বলেন, তিনি প্রতিদিনের পারিবারিক অশান্তি চান না। তাই স্ত্রী যে ব্যক্তির সঙ্গে থাকতে চেয়েছেন, তার সঙ্গেই বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ ঘটনায় কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।