
সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা দিন দিন আরও বাড়ছে। গত ছয় মাসে দেশটিতে অন্তত ৩০০-এর বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ড্রোন হামলার শিকার। এমন তথ্য প্রকাশ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
সোমবার (৬ জুলাই) ইউনিসেফ জানায়, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সংঘাতে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। বর্তমানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
ইউনিসেফ জানায়, উত্তর ও দক্ষিণ করদোফান, দারফুর এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে বর্তমানে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে হতাহতদের প্রায় ৬০ শতাংশই ড্রোন হামলার কারণে হয়েছে বলে সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদকে ঘিরে সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে জেনেভায় জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এতে এল-ওবেইদ ও আশপাশের এলাকায় র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং তাদের মিত্রদের সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে সুদান থেকে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর প্রতি আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপেরও নিন্দা জানানো হয়েছে।
ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের ফলে স্কুল, বাজার, জ্বালানি ডিপো এবং পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এছাড়া কিছু এলাকায় বাসিন্দারা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাস করছেন।
ইউনিসেফের সুদান প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, দেশটির শিশুরা অবিরাম সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি এবং বঞ্চনার এক ভয়াবহ চক্রে আটকা পড়েছে। তিনি সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো সুরক্ষা, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
এদিকে সোমবার সুদানের মিসর সীমান্তবর্তী ওয়াদি হালফা এলাকায় পরিত্যক্ত একটি স্বর্ণখনির অংশ ধসে অন্তত ১৫ জন অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। সুদানের রাষ্ট্রীয় খনিজ সম্পদ কোম্পানি জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে খনিটি আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকরা সেখানে পুনরায় খননকাজ শুরু করেছিলেন।
সূত্র: এপি নিউজ