
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী।
শনিবার (১৩ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেপরোয়া দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে সেবা প্রদান ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। তার মতে, শাসনব্যবস্থার সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ দুর্নীতি, যা দমনে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করা যেতে পারে।
মুনীর চৌধুরী বলেন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পাওয়ার পরও দুর্নীতির প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা, অদক্ষতা ও অনিয়মের জন্য কার্যকর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি করলে অনিবার্যভাবে শাস্তি পেতে হবে—এমন মানসিকতা প্রশাসনের মধ্যে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব মনে করেন, প্রচলিত বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে দুর্নীতির বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার কার্যকারিতা অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তাই দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সফল করতে হলে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক আমলাতন্ত্র গড়ে তুলতে হবে। এজন্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ জব্দ এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্নীতির মামলায় দায়মুক্তির সুযোগ বন্ধ করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের রক্ষায় উচ্চপর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, বেতন বৃদ্ধি মানুষের আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে এবং দুর্নীতির প্রবণতাও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ সালে মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে দুদক দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে, যা প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।