
আলিয়া মাদ্রাসায় ‘সহকারি মৌলভী (মুজাব্বিদ/কারি)’ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে ১৩ হাজারের বেশি সহকারি মৌলভী পদে নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে।
বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সভায় শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথাও বলা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় কো-চেয়ারম্যান শেখ সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আলিয়া মাদ্রাসায় কোরআন শিক্ষার জন্য সহকারি মৌলভী (মুজাব্বিদ/কারি) এবং ইবতেদায়ি কারি পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। সহকারি মৌলভী পদে আবেদন করতে হলে আল-হাইআতুল উলয়ার দাওরায়ে হাদিস সনদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর ইলমে কিরাত অথবা তাহফিজুল কোরআনের সনদ থাকতে হবে। জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী এই পদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ এবং ইবতেদায়ি কারি পদের বেতন গ্রেড ১৬।
এছাড়া সভায় জানানো হয়, ‘নতুন কুঁড়ি জাতীয় কিরাত ও হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬’ আয়োজন করা হবে। ‘কোরআন পড়, জীবন গড়’ স্লোগানে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি মাদ্রাসাবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনি প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া দাওরায়ে হাদিস সনদ অনলাইনে সত্যায়নের জন্য মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অ্যাপোস্টিল পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বিভিন্ন মাদ্রাসা বোর্ডের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।