
ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এখন থেকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধে হাজির না হলে পরবর্তী ধাপে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়াও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সেবা উন্নত করার লক্ষ্যে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, সিগন্যাল অমান্যসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নোটিশ আকারে যানবাহনের মালিক ও চালকের ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে।
নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা ডিএমপি সদর দপ্তর বা ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করছেন।
তবে নোটিশ পাওয়ার পরও কেউ হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংয়ে উন্নত সিসি ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে লালবাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে চলাচল, অবৈধ পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানামার কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা কার্যক্রম চালু হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের নামে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। প্রতারণার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা ট্রাফিক বিভাগে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।